মাসআলা: কোনো নারীর হজের দিনগুলোতে ঋতুস্রাব (হায়েয) শুরু হলে, সে তাওয়াফ ছাড়া হজের অন্যান্য সব আরকান ও বিধান পালন করতে পারবে। তবে হায়েয অবস্থায় মসজিদুল হারামে প্রবেশ করা যাবে না; কারণ ঋতুবতী নারীর জন্য মসজিদে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ।
মাসআলা: তাওয়াফেÑতা ফরজ, ওয়াজিব বা নফল যাই হোকÑঅংশগ্রহণের সময় কোনো নারীর ঋতুস্রাব শুরু হয়ে গেলে তাকে তৎক্ষণাৎ মসজিদুল হারাম থেকে বের হয়ে যেতে হবে। এ অবস্থায় তাওয়াফ সম্পন্ন করা বা মসজিদে অবস্থান করা জায়েজ নয়।
মাসআলা: তাওয়াফের চার বা তার অধিক চক্কর সম্পন্ন করার পর ঋতুস্রাব শুরু হলে, তাওয়াফ আদায় হয়ে গেছে বলে গণ্য হবে। তবে অবশিষ্ট চক্করগুলোর জন্য সদকা আদায় করতে হবে। আর চার চক্করের কম সম্পন্ন করার পর ঋতুস্রাব শুরু হলে তাওয়াফ আদায় হবে না; পবিত্র হওয়ার পর পুনরায় তাওয়াফ করতে হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: অবশিষ্ট প্রতিটি চক্করের পরিবর্তে অর্ধ সা‘ গম সদকা করতে হবে। এক সা‘ প্রায় সাড়ে তিন কিলোগ্রামের কাছাকাছি।
মাসআলা: তাওয়াফে জিয়ারত করার আগে বা তাওয়াফ চলাকালে ঋতুস্রাব শুরু হলে, পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। পবিত্র হওয়ার পর গোসল করে তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করবে। তবে যদি ফিরতি যাত্রার নির্ধারিত সময় বা টিকিটের কারণে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব না হয় এবং ফিরে যাওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে, তাহলে অপবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করার প্রয়োজন হলে তাওয়াফ করে নেবে এবং এ জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। এ ক্ষেত্রে হারাম এলাকায় ক্ষতিপূরণস্বরূপ একটি দম করতে হবে।
মাসআলা: হায়েয বা নিফাসের কারণে তাওয়াফে জিয়ারত বিলম্বিত হলে শুধু বিলম্বের কারণে কোনো জরিমানা বা দম ওয়াজিব হয় না।বিশেষ পরামর্শ: হজের সময় ঋতুস্রাবের কারণে তাওয়াফে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার করে ঋতুস্রাব সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
মাসআলা: মক্কা থেকে বিদায় নেওয়ার আগে যদি রক্তস্রাব শুরু হয়ে যায়, তবে বিদায়ী তাওয়াফ (তাওয়াফে বিদা) মাফ হয়ে যায়। এ অবস্থায় তাওয়াফ না করেই ফিরে আসতে পারবে।
মাসআলা: যদি কেউ ওমরার ইহরাম বাঁধে এবং ঋতুস্রাব শুরু হওয়ায় ওমরা করার সুযোগ না পায়, কিন্তু হজের দিনগুলো (মিনার যাত্রা ইত্যাদি) শুরু হয়ে যায়Ñ তবে নারী ওমরার ইহরাম বাতিল করে হজের ইহরাম বেঁধে নেবে এবং হজের আমল শুরু করবে। পরবর্তীতে এই ওমরা কাজা করে নেবে।
মাসআলা: ঋতুমতী নারী রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর রওজা মুবারক জিয়ারত ও সালাম পেশ করার উদ্দেশ্যে মসজিদে নববীর ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না; তবে মসজিদের বাইরে থেকে দুরুদ ও সালাম পাঠ করতে পারবে।
মাসআলা: ঋতুস্রাব থাকা অবস্থায় ওমরার ইহরাম বাঁধা জায়েজ, তবে এই অবস্থায় তাওয়াফ করা যাবে না।
মাসআলা: হায়েজ অবস্থায় সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে ‘সায়ী’ করা জায়েজ; কারণ সায়ীর জন্য পবিত্রতা শর্ত নয়।
মাসআলা: কানো নারী হজ/ওমরার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর যদি তার ঋতুস্রাব শুরু হয় এবং সে তখনও ইহরাম না বেঁধে থাকে, তবে এতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ হায়েজ অবস্থায়ও ইহরাম বাঁধা যায়।
মাসআলা: হায়েজ অবস্থায় ইহরাম বাঁধার পর হজের সমস্ত কাজ করা জায়েজÑ শুধু তাওয়াফ করা এবং নামাজ পড়া নিষেধ।
মাসআলা: ইহরামের নিয়ত করার সময় যে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া হয়, হায়েজ অবস্থায় সে নামাজ পড়বে না। বরং গোসল বা অজু করে কেবলামুখী হয়ে ইহরামের নিয়ত করে ‘তালবিয়া’ (লাব্বাইক…) পাঠ করবে।
মাসআলা: হায়েজ অবস্থায় তাওয়াফে কুদুম করবে না। মিনা যাওয়ার আগে পবিত্র হলে গোসল করে তাওয়াফে কুদুম করবে; আর মিনা যাওয়ার আগে পবিত্র না হলে তাওয়াফে কুদুম বাদ দিয়েই মিনায় চলে যাবে। এতে কোনো কাফফারা বা জরিমানা হবে না; কারণ তাওয়াফে কুদুম ফরজ বা ওয়াজিব নয়, বরং সুন্নত।
মাসআলা: ১০ই জিলহজ থেকে ১২ই জিলহজের সূর্য ডোবার আগে যে তাওয়াফ করা হয়, তাকে তাওয়াফে জিয়ারত বলে। এটি ফরজ তাওয়াফ। যদি কোনো নারী এই সময়ে হায়েজগ্রস্ত থাকে, তবে সে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং পবিত্র হয়ে গোসল করে তাওয়াফ করবে। ওজরের (শারীরিক সমস্যার) কারণে এই দেরি হওয়ার ফলে কোনো জরিমানা বা ‘দম’ দিতে হবে না। কিন্তু যদি পবিত্র হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের সুযোগ না থাকে বা ভিসা/ফিরতি ফ্লাইটের কারণে চলে যেতেই হয়, তবে বাধ্য হয়ে এই অপবিত্র অবস্থাতেই তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করবে এবং হারাম এলাকায় একটি উট, গরু বা মহিষ কোরবানি করবে।
মাসআলা: যদি কোনো নারী হায়েজ অবস্থায় ওমরার ইহরাম বাঁধে (অথবা ইহরাম বাঁধার পর হায়েজ শুরু হয়)Ñ তবে মক্কায় পৌঁছে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং পবিত্র হয়ে গোসল করে ওমরা সম্পাদন করবে। কিন্তু যদি পবিত্র হওয়ার আগে তাকে ফিরে যেতেই হয় (যেমন: ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ নেই বা মহরম সাথে থাকার ব্যবস্থা নেই), তবে বাধ্য হয়ে হায়েজ অবস্থায় ওমরা করে নিবে এবং একটি কুরবানী করবে।







