টিকিট সিন্ডিকেটের কারণে ওমরাহ যাত্রীদের অতিরিক্ত ১১ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ হজযাত্রী ও হাজী কল্যাণ পরিষদ। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন। এ সময় তারা টিকিট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।
লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ হজযাত্রী ও হাজী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ আল নাসের বলেন, ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ওমরাহ পালন করার জন্য এতদিন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। দুই বছর বন্ধ থাকার পর মাত্র তিন মাস আগে বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ কার্যক্রম চালু হয়েছে। কিন্তু লক্ষ করা যাচ্ছে, বিমানের মতিঝিল সেলস অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা অবৈধভাবে কিছু ট্রাভেল এজেন্সিকে শত শত টিকিট বরাদ্দ দিয়ে ঢাকা-জেদ্দা রুটে এক ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। বিমানের প্রকৃত ভাড়া ৬৭ হাজার টাকা হলেও এ অবৈধ সিন্ডিকেট ঢাকা-জেদ্দা রুটে বিমান ভাড়া নিচ্ছে ৭৮ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা। প্রতিটি টিকিটে ওমরাযাত্রীদের ১১ হাজার টাকা অতিরিক্ত প্রদান করতে হচ্ছে। যা ওমরাহ পালনকারীদের ওপর জুলুম।
তিনি আরো বলেন, বিমানের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও সিন্ডিকেটের কারণে হজ এজেন্সিগুলো সরাসরি টিকিট কিনতে পারছে না। সিন্ডিকেট আগে থেকেই টিকিট বুকিং দিয়ে রাখছে। তাদের কাছ থেকে উচ্চ দরে অন্যদের টিকিট কিনতে হচ্ছে। কিন্তু সব টিকিট বিক্রি না হওয়ায় শেষ দিকে তারা টিকিট ফেরত দিচ্ছে। এতে বিমানে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৮০ জনের সিট খালি যাচ্ছে, যা জাতীয় সম্পদের বিশাল অপচয়।
ড. নাসের বলেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা যদি মতিঝিল বাংলাদেশ বিমান অফিসে গিয়ে তাদের খাতা ও কম্পিউটার পরীক্ষা করে তাহলে তারা কোন কোন এজেন্সিকে কত টিকিট দিয়েছে তা বের হয়ে আসবে। এতেই বোঝা যাবে কত ট্রাভেল এজেন্সি কত কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করছে। এর হিসাব নিয়ে এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ হজযাত্রী ও হাজী কল্যাণ পরিষদের উপদেষ্টা আবদুস সোবহান ভুঁইয়া হাসান বলেন, বিমানের টিকিটের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ ওমরাহে যেতে পারছে না। এজন্য টিকিটের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংগঠনের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম বলেন, বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট ভুয়া যাত্রী দেখিয়ে অনলাইনে বুকিং দেয়। এতে অন্যরা ঠিকমতো টিকিট পায় না। অতিরিক্ত টাকা দিয়ে তাদের কাছ থেকে এজেন্সিগুলো টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছে। এতে ওমরাহ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি ওমরাহ যাত্রীদের জন্য টিকিট বুকিং ওপেন করে দেয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে হজ-ওমরাহ কার্যক্রমে থার্ড ক্যারিয়ার চালু করারও দাবি জানানো হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু দাউদ ফয়সাল, মাহমুদ মানিক প্রমুখ।